সেখেরপাড়া গ্রামের জেলে
সখীচরণ (৪৫)। আগে
পদ্মায় মাছ
ধরে জীবিকানির্বাহ
করতেন।
অন্য জেলের
মতো তিনিও
এখন পদ্মায়
চাষাবাদে ব্যস্ত। চাষাবাদ
করেই জলে
কোনোমতে তার
সংসার। তবে বর্ষা মৌসুমের
অপেক্ষায় আছেন
তিনি।
পদ্মায় পানি এলে আবারো মাছ ধরবেন সখীচরণ। কিন্তু শুকনো পদ্মায় মাছ কি আর আসবে! রাজশাহীর বড় অংশ জুড়েই বয়ে গেছে পদ্মা। এক সময়ের প্রমত্তা পদ্মা এখন কোথাও সরু খাল, কোথাও ধু-ধু বালুচর। এই পদ্মা ঘিরেই এক সময় এখানে গড়ে উঠেছিল জেলে পল্লী। বছরের পর বছর মাছ ধরে ঘর-সংসার করতেন জেলেরা।
জালে জালে জেলে
পল্লীর সুখ-দুঃখ গাঁথা
হতো পরম
মমতায়।
সেসব স্মৃতি
মনকে নাড়া
দেয় সখীচরণের। আজ
তার কপাল
পড়েছে।
শুকনো পদ্মায় পানি
নেই, মাছ
নেই, নেই
জেলেদের পেশাও। হাতেগোনা
যে কয়েকজন
এখনো আদিম
পেশা নিয়েই
বেঁচে আছেন,
তাদের তাড়িয়ে
বেড়াচ্ছে নানা
অভাব-অনটন।
আগের মতো মাছ
না থাকায়
মানবেতর জীবনযাপন
করছেন জেলেরা। ৩০
বছর আগে
রাজশাহী জেলার
পেশাজীবী জেলের
সংখ্যা ৩৫
হাজার মতো
থাকলেও বর্তমানে
তা কমে
৩ হাজারে
নেমে এসেছে। সারাবছর
মাছ সংগ্রহ
করে এমন
জেলের সংখ্যা
দুই হাজারেরও
কম।
পানি না থাকায়
রাজশাহী অঞ্চলের
ওপর দিয়ে
বয়ে যাওয়া
বারনই, ফকন্নী,
শিব নদীসহ
পদ্মার ১২টি
শাখা নদীসহ
অসংখ্য খাল
শুকিয়ে গেছে। এসব
নদী পলি
ও বালু
জমে ভরাট
হয়ে যাওয়ার
কারণে এখন
মৃতপ্রায়।
শুষ্ক মৌসুমের আগেই
নদীগুলো শুকিয়ে
যেতে শুরু
করেছে।
কিন্তু আশির
দশক পর্যন্ত
এসব নদীতে
শুষ্ক মৌসুমেও
পানি থাকত।
সে পানি কৃষি
জমির সেচ
কাজের জন্য
ব্যবহার করা
হতো।
জেলেরা মাছ
শিকার করতেন,
চলত নৌকাও।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে
প্রায় মরুভূমি
পদ্মা।
কিন্তু জীবিকার
তাগিদে মুমূর্ষুপ্রায়
পদ্মার শেষটুকুও
পান করতে
ব্যস্ত নদীপাড়ের
জেলেরা।
শত শত
বছর ধরে
বাপ-দাদার
পেশাটাকে আঁকড়ে
আছেন তারা।
ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে
কয়েক দশকে
অপমৃত্যু হয়েছে
পদ্মা নামের
এ নদীটির। বাধ্য
হয়ে জেলেরা
নৌকার বৈঠা
আর জাল
ফেলে ব্যস্ত
হয়ে পড়ছেন
কোদাল-কাস্তে
আর লাঙলে।
গোদাগাড়ীর পিরিজপুর এলাকায়
১০৭ জন
কৃষকের সমন্বয়ে
পদ্মার চরে
জেগে ওঠা
চরে চাষবাদ
করা হচ্ছে। এদের
বেশিরভাগ কৃষকের
আদি পেশা
জেলে।
সখীচরণের মতো আরও
একজন মাইনুল
ইসলাম (৪২)। বাড়ি
উপজেলার চর
আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের পূর্ব কানাপাড়া গ্রামে। আগে
শ্যালো ইঞ্জিনচালিত
নৌকার মাঝি
ছিলেন।
ভরা পদ্মায়
মাছ শিকার
করাই ছিলো
তার প্রধান
পেশা।
কিন্তু পদ্মায়
এখন নৌকা
চলে না। তাই
কৃষকদের পরামর্শে
তার শ্যালো
ইঞ্জিনটি দিয়ে
গভীর নলকূপ
বসিয়েছেন।
নলকূপ দিয়ে
পানি উঠিয়ে
সেচ জমিতে। বিনিময়ে
পান ফসলের
সমান ভাগ।

আর কি পোবে না পদ্মা আগের রূপ?
উত্তরমুছুন