মনে পড়ে তাঁকে



সময়টা ১৯৯৪, রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি। দেশে তখন গো. আজমের নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে তুমুল ঝড় ওঠে। ওদিকে রাজাকার হঠাও আন্দোলনে ক্লান্ত এক শহীদ জননী ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ২৬ জুন মারা গেলেন লন্ডনে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বামী-সন্তানহারা জাহানারা ইমাম। স্বামী-সন্তানসহ মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে নিহতদের হত্যার বিচারের দাবিতে এক মঞ্চে এনেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলোকে। গড়ে তুলেছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি।   
এর কয়েকদিন পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ছিল তাঁর নাগরিক শোকসভা। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনের সড়ক ধরে প্রায় নবাবপুরে গিয়ে ঠেকে জনতার স্রোত। সেদিন সংগঠনের পক্ষের কর্মী হওয়ার সুবাদে মঞ্চের সামনে বসার সুযোগ হয়। এরপর সেদিনের সভার মধ্যমনি জাতীর বিবেক, জননী সাহসিকা বেগম সুফিয়া কামালের সঙ্গে দেখা করি। জানতে চাই পরবর্তী করণীয়। এক পর্যায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে তিনি মায়ের আদরে বলেছিলেন-‘বড় মানুষ হও, দেশকে গড়ে তোল।’ তাঁর ওই দোয়া নিয়ে আজো চলি। তবে ‘বড় মানুষ’ হতে পারিনি, পারব কিনা তাও জানা নাই। সেদিনের পরে নিজের জীবনে অনেক ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সংগঠনে বেশি একটা সময় আর দেয়া হয়ে ওঠেনি। তবে একটু বলে নিই, বেগম সুফিয়া কামালের সঙ্গে ওই দিনের আগে এবং পরে অনেক দেখা হয়েছে। তার কাছ থেকে জেনেছি অনেক না জানা কথা। বিশেষ করে আমার পিসিমা, সোনা সরকার এবং বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন কলকাতায় যথাক্রমে সহপাঠী-সহকর্মী। আমার পিসিমার কাছ থেকেও তাদের ‘কলকাতার দিনগুলো’ জেনেছি। ওনার সঙ্গে দেখা হলে পিসিমার কথা জিজ্ঞেস করতেন, বলতেন-‘ও আর আমি কিন্তু একই রকম-ছোটখাটো, দেখে রেখ-বড় ভালো মানুষ।’ আসলে দুজনেই ছিলেন-বেশ ছোটখাট।
উল্লেখ্য, কলকাতা থেকে দেশে ফিরে বরিশাল সিস্টার ডে স্কুলের প্রধান শিক্ষক থাকাকালে পিসিমা হয়ে ওঠেন-‘বরিশালের মধ্যমনি।’ এরপর অনেক দিন কেটে যায় জীবনের খেলা খেলে। 
আসে ১৯৯৯ সালের ২০ নভ্ম্বের, সকাল পৌনে ন’টার দিকে আমাদের তৎকালীন ওয়ারীর বাসার ল্যান্ডফোন থেকে ফোন করি বিশিষ্ট নাট্যকার, অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম ভাইকে। ওনার সঙ্গে তখন একটা আন্তরিক ভাব ছিল বলেই ‘ভাই’ বলে ডাকতাম। সে যাক, রিসিভ করে একটু বিরক্ত হলেন। আরও ক্ষেপে গেলেন ল্যান্ডফোনে কথা বলায়-অর্থাৎ বাসায় থাকায়। উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন-এখনো বাসায়? 
আমি বিনয়ের সঙ্গে পাল্টা প্রশ্ন করলাম, কেন?
বললেন-‘সুফিয়া কামাল আর নেই। সকাল আটটা ২০ মিনিটে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’ উত্তরে শরীরটা হিম হয়ে এসেছিল, হাত থেকে রিসিভারটাও পড়ে গিয়েছিল। এরপর ছুটে যাই পিজিতে (বর্তমানে বিএসএমএমইউ)।ততক্ষণে মরদেহ নেয়া হয়েছে তাঁরই প্রিয় ‘সাঁঝের মায়া’য়। সেখানে সবাই শোককাতর।ঢাকার তৎকালীন মেয়র প্রয়াত হানিফ,মায়া ভাইসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী সবাই। প্রয়াত নাট্যকার আবুল খায়েরও গিয়েছিলেন অসুস্থ শরীর নিয়েই।হানিফ ভাইয়ের সেই দিনের শোকভরা মুখ আজও  কেন যেন ভেসে ওঠে।কেমন আছেন-জিজ্ঞেস করতেই বলেছিলেন-মা মারা গেলে ছেলের কী অবস্থা হয়! এসবই মনে পড়ে গেল তার জন্মদিনে। মহান আল্লাহ তার আত্মা শান্তিতে রাখুন, রাখুন তার পরম আশ্রয়ে।



        

মন্তব্যসমূহ

  1. Borgata to open live casino in New Jersey as it expands online
    Borgata Hotel 남원 출장안마 Casino & Spa 경기도 출장안마 will open its first online sports 당진 출장마사지 betting venue in New Jersey next month. The casino and 여수 출장샵 sportsbook 전주 출장안마 will be the

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন