আল্লাহ মেঘ দে পানি
দে ছায়া দেরে তুই
আল্লাহ মেঘ দে।আসমান হইলো টুডা টুডাজমিন হইলো ফাডা মেঘ রাজা ঘুমাইয়া রইছেমেঘ দিব কেডাআল্লাহ মেঘ দে...আল্লাহ ঠিকই কৃপা করে আমাদের বৃষ্টি দেন। বৃষ্টি নামানোর জনপ্রিয় এ গানটির কথা মনে পড়লেই চোখের
সামনে ভেসে ওঠে সবুজে মোড়ানো গ্রামের কথা। চারদিক যখন রোদের দগ্ধতায় ওষ্ঠাগত প্রাণ, ফসলের মাঠ যখন ফেটে চৌচির,
ক্লান্ত কাক যখন গাছের ছায়ায় ঝিম মেরে বসে একটু
শীতল স্পর্শ খুঁজে
ফেরে, চাতক যখন পানির জন্য হাহাকার করে, কুকুর জিহ্বা বের করে যখন কোনো বাগানের ছায়ায়
খুঁজে বেড়ায় শান্তির পরশ, মোষগুলো যখন গলা ডুবিয়ে মাথা
উঁচু করে সচল রাখে দেহযান, সাপ যখন তার গর্তে
আর থাকে না, তীব্র দাবদাহে কৃষক
যখন তার স্বপ্নের ফসল ফেলে বট কিংবা অশ্বত্থ গাছের
নিচে বিশ্রাম নেয়,
রাখাল গরুর পাল হাঁটু পানির জলাশয়ে ছেড়ে কপালে ঘাম মুছে ছায়াতেলে আশ্রয় নেয়, তখন আসে বৃষ্টি। শান্তির বৃষ্টি। কদম ফুলে ফুলে আসে প্রতিক্ষিত বৃষ্টি। আবার হাওরাঞ্চলে বৃষ্টি নামাতে ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন
করা হয়। গ্রামের ছেলেমেয়েরা নতুন করে সেজেগুজে ব্যাঙরূপী বর-কনেকেও সাজায়। তারপর তাদের
বরণ করে নিতে
ফুল দিয়ে সাজানো হয় হলুদের ডালা। সবাই নেচে-গেয়ে
আনন্দ-উল্লাস করে বিয়ে দেয়। তারপর ডালায় ফুল সাজিয়ে ব্যাঙ ও ব্যাঙিকে বসিয়ে বাড়ি বাড়ি
গিয়ে কাদায় গড়াগড়ি করে সংগ্রহ করে চাল, ডাল ও টাকা। আঞ্চলিক ভাষায়
গায় বৃষ্টির গান-বড় বাড়ির বউ বড় আশা করি,এক সের দুই সের চাল না দিলে
কিসের আশা করি...আল্লাহ মেঘ দে পানি
দেছায়া দেরে তুই...হউরি কয় দেম দেম বউ যে বোলে
না,কইত্যে আনছে বান্দইরে বউ চাল তো দিল না...বাড়ি বাড়ি গান গাওয়ার পর যে চাল,
ডাল, টাকা উঠে তাই দিয়ে ফিরনি
রান্না করে কাঙ্খিত বৃষ্টির জন্য পালন
করা হয় মানত। তারা বিশ্বাস করে ব্যাঙের বিয়ে ও মানত না দিলে
বৃষ্টি নামবে না।বৃষ্টি নামাতে ব্যাঙের বিয়ে,
বাড়ি বাড়ি ঘুরে
বৃষ্টি গান গাওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে না মানুষ। মুসলমানরা মসজিদে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে, খ্রিস্টানরা গির্জায়, বৌদ্ধরা প্যাগোডায় প্রার্থনা করে বৃষ্টির জন্য। আসে বৃষ্টি, স্বস্তির বৃষ্টি।কিন্তু বৃষ্টির গান কি এখানে শেষ হয়ে যায়! না, এখান
থেকেই শুরু হয়-বৃষ্টির গান। যে গান ফুরায় না হাজার বছরেও। সে গানের প্রভাব রয়ে যায় বছরের পর বছর। এ গানে
রচনা হয় আরও কত গান। যে গানে জীবনে আসে দুঃখ, আসে হতাশা,
ক্ষোভে ফেটে পড়ে কেউ কেউ।এ গান ঝড়ের, বন্যার, বন্যাদূর্গতদের।বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া
গ্রামের পর গ্রামের মানুষদের। পানির তোড়ে
ভেসে যাওয়া স্বজন-সম্পদহারাদের। গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে ঢাকাসহ দেশের
বিভিন্ন স্থানে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা গতকালও ছিল। দেশের কোথাও কোথাও
মাঝারি থেকে ভারি
বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।সারাদেশের অধিকাংশ এলাকায় আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার অনেক
এলাকার নর্দমাগুলো থেকে পানি যেতে পারছে
না। ফলে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী,
চাঁদপুর, ভোলা. বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুটের অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে।’এসব এলাকার
মানুষ এখন বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে গান গাইতে শুরু করেছে।হায়রে গান, বৃষ্টির জন্যও গান, আবার বৃষ্টি তাড়াতেও গান।গানে-গানে বৃষ্টি আসে, সুখ আসে, নিয়ে আসে দুর্ভোগও। 
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন