কাইয়ুম আহমেদ
আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, তবুও তারই মাঝে আনন্দ জাগে, আসলে বাস্তবেও এমনটিই হয়। কবিগুরুর এ গানে জীবন আছে, আছে দহনও। জানিনা, সবার জীবনে এ বাস্তবতা মেনে নেয়ার দাবিটা ঠিক কতটুকু। তবে কবিগুরুর অনেক গানে জীবনকে খুঁজে পাওয়া যায়, জীবন ধরা দেয়, প্রাণের স্পন্দনে। না, এটা আমার কোনো আবেগের অভিব্যক্তি নয়, নয় কোনো ভাবাবেগেরও। কঠিন বাস্তবতা মেনে নিয়ে, বাস্তবতায় জীবনের সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে সেই বাস্তবতাকেই চিনেছি, জেনেছি, রেখেছি কাছে অতি আপন করে। কোন অবেলায় কাকে কখন সে বাস্তবতার কথা বলা যায়? কেই মেনে নেবে এসব, কার বেলা আমার জন্য অপেক্ষার ডালি সাজিয়ে রাখবে, পড়ন্ত বেলায়, মধ্যরাতে কিংবা নতুন ভোরের সোনালী সূর্যের আলোয়! জানি না, জানতে ইচ্ছাও করেনা এখন। এখন আমার জীবনে আরো ‘জীবন’ আছে, এখন সেই জীবনই যে আমার জীবন।
আলো-আধারের উঁচু-নিচু পথ ধরে, শ্রাবণের কাদা-জল গায়ে মেখে এমনকি মাঘের তীব্র শীতেও সকালে কিংবা দুপুরে এখন হেঁটে যাই, হেঁটে জীবনের খোঁজে, জীবনকে সঙ্গী করে। ক্লান্ত, অবসন্ন, রোগাক্রান্ত এ আমার শরীরে এখন সয়ে গেছে অনেক কিছুই, ভয় করিনা-কোনো ভয়কেই। তবে মাঝে-মধ্যে গোলমাল পাকিয়ে যায় সব, কাজ পড়ে থাকে হাতের নাগালেই, যা করা দরকার এখনই, কিন্তু করা হয়ে ওঠেনা। বিষিয়ে ওঠে গভীর তৃষ্ণাতেও পান করার জন্য শেষ জলটুকু। জীবনের পথে, জীবনকে টেনে হিঁচড়ে নেয়া যায়না জেনেও হেঁটে চলি।
এ আমার মূর্খতা নয়, আমার প্রণয়ের চলা। চলতে চলতে গান গেয়েই চলি। গান, কবিগুরুর গান। আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু..........চলার শেষ হবে সেদিন, যেদিন ফুরিয়ে যাবে দম, হাওয়ায় উড়ব, নাকি সমুদ্রের গভীরে ভাসব, নাকি পাহাড়ি ঝরণায় নাচব, গাইব আবার কবিগুরুর গান, সেই অবিনাশি গান, আমার এ পথ চলাতেই আনন্দ, খেলে যায় রৌদ্র ছায়া, বর্ষা আসে, বসন্ত..........কবে ‘জীবনের’ জীবনগুলো পাবে আশ্রয়, খুঁজে নেবে আপন ঠিকানা, কবে আমার গানের মালা গাঁথা শেষ হবে! চলছি, চলব, বাস্তবতায়, স্বপ্নে। দুঃখ থাকবে, সঙ্গে আনন্দও।



পড়ুন, উপভোগ করুন জীবনকে, জীবনের সঙ্গীকে
উত্তরমুছুন