যেভাবে এলো ডে কেয়ারের ভাবনা...
সকালেই মা-বাবা বেরিয়ে যান কাজে। সারাদিন বাসায় নিঃসঙ্গ দিনকাটে আভাসের। বয়স মাত্র চার, তাই স্কুলেও ভর্তি হওয়া হয়নি। একাকী থেকে অন্য শিশুদের চেয়ে মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ে সে। গৃহপরিচারিকার কাছ থেকেও মেলে না পর্যাপ্ত যত্ন। তাই শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ ভেবে নিজের ক্যারিয়ার ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা ঘুরছিল মেঘার মা নাফিজা আমিরের মাথায়। ঠিক এ সময় পরিচয় হয় আমার সঙ্গে।
ছোট্ট মেঘাকে নিয়ে ওর নানী আসতে থাকেন আমার ছেলে-মেয়ের সঙ্গে বসে খাওয়াতে-কারণ ও নাকি খেতেই চায় না। আমিও আদর করে ওকে খাওয়ানো শুরু করলাম।
লক্ষ্য করলাম মেঘা ওর মায়ের থেকেও আমাকে বেশি ভালবেশে ফেলল। আমেই যেন হয়ে উঠলাম ওর খাওয়া আর খেলার সঙ্গী। এভাবেই মাথায় এলো চাইল্ড কেয়ারের।
ঠিক সময়ে খাবার খাওয়া, গোসল, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা গান, গল্প, দুপুরের ভাত, ঘুম আর একটু করে পড়াশোনায় সতেজ হয়ে ওঠে মেঘা। বাড়ি ফিরেও মুখ থেকে ঝরে কথার ফুলঝুরি। সন্তানের এই প্রাণোচ্ছলতায় স্বস্তি ফেরে কর্মজীবী মা-বাবার মনে।
একজন নারীকে একা সংসার, সন্তানসহ সবকিছু সামলাতে হয়। এর বাইরে যদি তাকে টাকা উপার্জনের জন্য নির্ধারিত সময় ধরে অফিস করতে হয় তাহলে তার সন্তান থাকবে কোথায়? মায়ের মমতা পাবে কোথায় কর্মজীবী মায়ের সন্তান? এই নির্ভরতার জায়গা নিয়ে চালু করতে যাচ্ছি ‘রোজি চাইল্ড কেয়ার’। যেখানে শিশুরা থাকবে দিনভর। শিশুরা খেলাধুলা, ছবি আঁকা এমনকি গানও শিখতে পারবে। খেলাচ্ছলে পড়াও শিখবে। যেন শিশুদের নিজেদেরই বাড়ি হবে ‘রোজি চাইল্ড কেয়ার’।
আমার সন্তানও থাকেবে শিশুদের সঙ্গেই। তাই নিজের সন্তানের মতো মাছের কাঁটা বেছে ভাত খাইয়ে দেব ওদের। প্রতিদিনের খাবারটা রুটিন করে পুষ্টি অনুযায়ী আমরাই দেব।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন